মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা গত বছর কোম্পানি থেকে আয় করেছেন ৭ কোটি ৯১ লাখ ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। লভ্যাংশে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁট না এলে তার আয়ের পরিমাণ আরো বাড়ত বলে জানিয়েছে বিবিসি।
কোম্পানি থেকে আয় বলতে বোঝায় ওই ব্যক্তির বেতন, বোনাস ও শেয়ারসহ অন্যান্য প্রণোদনা। মাইক্রোসফটে সাইবার নিরাপত্তাজনিত কিছু ত্রুটির কারণে সত্য নাদেলা তার প্রাপ্ত লভ্যাংশের একটি অংশ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। না হলে তার আয়ের অংক আরো ৫০ লাখ ডলার বাড়ত।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে মাইক্রোসফট বোর্ডের দাখিল করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির আয় ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
মাইক্রোসফটের কম্পেনসেশন কমিটি শেয়ারহোল্ডারদের বলেছে, কোম্পানির পারফরম্যান্স যে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল সে বিষয়ে একমত সত্য নাদেলা।
কমিটি আরো জানিয়েছে, কিছু সাইবার হামলার কারণে কোম্পানির পারফরম্যান্স ও আর্থিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকে লভ্যাংশের একটি অংশ কমানোর অনুরোধ করেন সত্য নাদেলা।
গত বছরের জুলাইয়ে একই রকম সাইবার হামলার কথা জানিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই হামলায় হ্যাকাররা সরকারি সংস্থাসহ অন্তত ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলের অ্যাকসেস নিতে সক্ষম হয়। তখন মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, হামলাটি চীন থেকে হয়েছে। যদিও লন্ডনের চীনা দূতাবাস একে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বিভ্রাট দেখা দেয়। এ ঘটনায় মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ব্যবহার করা অধিকাংশ কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। এতে এভিয়েশনসহ অনেক সেবা খাত ক্ষতির মুখে পড়ে। যদিও সেটি সাইবার হামলা ছিল না। তবে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ আরেকটি হামলার কারণে ক্ষমা চায় এ টেক জায়ান্ট।
কম্পেনসেশন কমিটি বলেছে, সত্য নাদেলার লভ্যাংশ ও প্রণোদনা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে ৫২ লাখ ডলার করা হয়েছে, যা কোম্পানি থেকে তার মূল আয়ের ৭ শতাংশেরও কম। তার আয়ের বেশির ভাগ অংশ স্টক থেকে এসেছে।
গবেষণা সংস্থা হাই পে সেন্টারের পরিচালক লুক হিল্ডইয়ার্ড বলেন, ‘মাইক্রোসফটের শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্সের কারণে সত্য নাদেলার এ আয় অর্থবহ মনে হচ্ছে। তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়। আর তা হলো, সত্য নাদেলার মতো মিলিয়নেয়ারের জন্য ২০২২ সালের ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের আয় থেকে পরের বছর ৭ কোটি ৯১ লাখ ডলার আয় কতটা যুক্তিযুক্ত।’
তিনি আরো বলেন, ‘কর্মী, গ্রাহকসহ সবার অবদান ছাড়া মাইক্রোসফটের কোনো সাফল্যই সম্ভব হতো না। তাই হয়তো সেই সাফল্যের অর্জিত অর্থ আরেকটু সমানভাবে ভাগ করে নেয়া উচিত ছিল।’